ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬। ভাড়া, আসন ছাড় ও টিকিটের আপডেট তথ্য
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এই রুটটি বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলোর একটি। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, পর্যটক আর শিক্ষার্থী—সব মিলিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। ট্রেনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে প্রথমেই জানতে চান ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী। কোন ট্রেন কখন ছাড়ে, কখন পৌঁছায়, কোন দিন বন্ধ থাকে, ভাড়া কত এসব তথ্য হাতে না থাকলে যাত্রা শুরু করাটাই ঝামেলার। এই পোস্টে আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী প্রতিটি ট্রেনের ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময়, সাপ্তাহিক ছুটি, ভাড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য বিস্তারিত দিয়েছি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে মোট কটি ট্রেন চলে?
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে বর্তমানে নিয়মিত ৫টি আন্তঃনগর ট্রেন ও ৩টি মেইল ট্রেন চলাচল করে। এছাড়াও কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর ট্রেন দুটি চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতি দেয়। অর্থাৎ মোট ১০টি ট্রেনের মাধ্যমে যাত্রীরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে পারেন। আন্তঃনগর ট্রেনগুলো দ্রুত ও আরামদায়ক, আর মেইল ট্রেনগুলো তুলনামূলক সাশ্রয়ী।
ঢাকা টু চট্টগ্রাম আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী ও ছুটির দিন
আন্তঃনগর ট্রেনগুলো যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। এই ট্রেনগুলোতে এসি ও নন-এসি উভয় ধরনের আসন রয়েছে। নিচের টেবিলে প্রতিটি ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | ঢাকা ছাড়ার সময় | চট্টগ্রাম পৌঁছার সময় | সাপ্তাহিক ছুটি | মোট সময় |
|---|---|---|---|---|
| সুবর্ণা এক্সপ্রেস (৭০২) | বিকাল ৪:৩০ টা | রাত ৯:২৫ টা | সোমবার | ৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট |
| মহানগর প্রভাতী (৭০৪) | সকাল ৭:৪৫ টা | দুপুর ১:৩৫ টা | কোনো ছুটি নেই | ৫ ঘণ্টা ৫০ মিনিট |
| মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) | রাত ৯:২০ টা | ভোর ৩:৩০ টা | রবিবার | ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট |
| তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪২) | রাত ১১:১৫ টা | ভোর ৫:১৫ টা | কোনো ছুটি নেই | ৬ ঘণ্টা ০০ মিনিট |
| সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (৭৮৮) | সকাল ৭:০০ টা | দুপুর ১২:১৫ টা | বুধবার | ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট |
দ্রুতগামী ট্রেন: সুবর্ণা এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস এই দুই ট্রেন প্রায় বিরতিহীনভাবে চলে। তাই সময় বাঁচাতে চাইলে এ দুটি ট্রেন বেছে নিতে পারেন। বিশেষ করে সুবর্ণা এক্সপ্রেস মাত্র ৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছে যায়।
ঢাকা টু চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের সময়সূচী
মেইল ট্রেনগুলো আন্তঃনগর ট্রেনের তুলনায় সময় বেশি নেয়। কিন্তু ভাড়া অনেক কম। যাত্রাপথে ছোট ছোট স্টেশনে থামে বলে গ্রামীণ যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক।
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | ঢাকা ছাড়ার সময় | চট্টগ্রাম পৌঁছার সময় | সাপ্তাহিক ছুটি | মোট সময় |
|---|---|---|---|---|
| চট্টগ্রাম মেইল (০২) | রাত ১০:৩০ টা | সকাল ৭:২৫ টা | কোনো ছুটি নেই | ৮ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট |
| কর্ণফুলী এক্সপ্রেস (০৪) | সকাল ৮:৩০ টা | বিকাল ৬:০০ টা | কোনো ছুটি নেই | ৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিট |
| চট্টলা এক্সপ্রেস (৬৪) | দুপুর ১:০০ টা | রাত ৮:৫০ টা | মঙ্গলবার | ৭ ঘণ্টা ৫০ মিনিট |
দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে চাইলে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস দারুণ অপশন। অপরদিকে রাতে যেতে চাইলে চট্টগ্রাম মেইল সাশ্রয়ী একটি পছন্দ।
আরও জেনে নিনঃ মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
কক্সবাজারগামী ট্রেনে চট্টগ্রাম যাতায়াত
সম্প্রতি চালু হওয়া কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসও চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতি দেয়। যাত্রীরা এই ট্রেনগুলোতেও চট্টগ্রাম যেতে পারেন।
- কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৪): ঢাকা ছাড়ে রাত ১০:৩০ টায়, চট্টগ্রাম পৌঁছায় ভোর ৩:৪০ টায়। বুধবার বন্ধ থাকে।
- পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৬): ঢাকা ছাড়ে সকাল ৬:১৫ টায়, চট্টগ্রাম পৌঁছায় সকাল ১১:২০ টায়। রবিবার বন্ধ থাকে।
ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের ভাড়া তালিকা (ভ্যাটসহ)
ট্রেনের ভাড়া আসনের শ্রেণি ও ট্রেনের ধরনের উপর নির্ভর করে। নিচে বর্তমান ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো:
শোভন ও শোভন চেয়ার শ্রেণি
- শোভন (দ্বিতীয় শ্রেণি): ২৮৫ টাকা
- শোভন চেয়ার: ৪০৫ – ৪৫০ টাকা (ট্রেনভেদে)
- কমিউটার/সুলভ: ১৪৫ – ১৭৫ টাকা (শুধু মেইল ট্রেন)
প্রথম শ্রেণি ও স্নিগ্ধা
- প্রথম শ্রেণি চেয়ার (এফ-সিট): ৬২১ টাকা
- প্রথম শ্রেণি কেবিন/বার্থ (এফ-বার্থ): ৯৩২ টাকা
- স্নিগ্ধা (নন-এসি): ৭৭৭ – ৮৫৫ টাকা
এসি শ্রেণি
- এসি চেয়ার সিট (এসি-এস): ১,০২৫ টাকা
- এসি কেবিন/বার্থ (এসি-বি): ১,৩৯৮ টাকা
মনে রাখবেন: এসি বার্থ/কেবিনে ভ্রমণ করতে চাইলে মহানগর এক্সপ্রেস ও তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোতে এই সুবিধা রয়েছে।
ট্রেনের যাত্রাবিরতি- কোন স্টেশনে থামে?
সুবর্ণা ও সোনার বাংলা ব্যতীত বাকি ট্রেনগুলো নিচের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে যাত্রাবিরতি দেয়:
- ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন
- নরসিংদী ও ভৈরব বাজার জংশন
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়া জংশন
- কুমিল্লা ও লাকসাম জংশন
- ফেনী জংশন (চট্টগ্রামের আগে শেষ বড় স্টেশন)
মেইল ট্রেনগুলো উপরিউক্ত স্টেশন ছাড়াও আরও বহু ছোট স্টেশনে থামে।
অনলাইনে টিকিট বুকিং করবেন যেভাবে
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালু আছে। ঘরে বসেই টিকিট কাটতে পারেন। ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকেটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
- প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিন (একবার করলেই হবে)।
- রুট নির্বাচন করুন: ‘ঢাকা’ থেকে ‘চট্টগ্রাম’।
- যাত্রার তারিখ ও পছন্দের ট্রেন সিলেক্ট করুন।
- আসনের শ্রেণি ও কাঙ্ক্ষিত আসন বাছাই করুন।
- বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করুন।
- টিকিটটি ডাউনলোড করে রাখুন বা প্রিন্ট করে নিন।
টিপস: জনপ্রিয় ট্রেনের টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই যাত্রার ৭-১০ দিন আগে বুকিং দেওয়া ভালো।
ট্রেন ভ্রমণের সুবিধা ও অসুবিধা
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন বাসের তুলনায় অনেক সুবিধাজনক। নিচে তুলে ধরা হলো:
সুবিধা
- আরাম: ট্রেনে বসার জায়গা বড়, সিটে হেলান দিয়ে বসার সুযোগ আছে।
- নিরাপত্তা: বিশেষ করে রাতের বেলায় ট্রেন বাসের চেয়ে নিরাপদ।
- টয়লেট সুবিধা: ট্রেনে পরিষ্কার টয়লেট থাকে, যা বাসে নেই।
- সাশ্রয়ী: মেইল ট্রেনের ভাড়া অনেক কম।
- খাবারের ব্যবস্থা: ট্রেনে খাবার ও পানি কেনার সুবিধা আছে।
অসুবিধা
- বিলম্ব: মাঝে মাঝে ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে পৌঁছায়।
- ভিড়: ঈদ বা ছুটির সময় টিকিট পাওয়া কঠিন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে টিকিট পাওয়ার কৌশল
জনপ্রিয় ট্রেনের টিকিট পাওয়া কঠিন। কিছু কৌশল জানা থাকলে কাজ সহজ হয়:
- অগ্রিম বুকিং সিস্টেম ব্যবহার করুন (যাত্রার ৭-১০ দিন আগে)
- সুবর্ণা বা সোনার বাংলার মতো হাইপড ট্রেন বাদ দিয়ে বিকল্প ট্রেন বেছে নিন (মহানগর প্রভাতী বা কর্ণফুলী)
- ঈদ বা ছুটির সময় অনলাইন ও কাউন্টার উভয় জায়গায় চেষ্টা চালিয়ে যান
- Rail Sheba অ্যাপ ইনস্টল করে রাখুন, সেখানে টিকিট পেতে সুবিধা হয়
- দুপুর বা বিকেলের ট্রেনের টিকিট পাওয়া তুলনামূলক সহজ
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ অনুযায়ী সবচেয়ে দ্রুত ট্রেন কোনটি?
উত্তর: সবচেয়ে দ্রুত ট্রেন হলো সুবর্ণা এক্সপ্রেস (৭০২)। এটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে সময় নেয় মাত্র ৪ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। দ্বিতীয় দ্রুত ট্রেন সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, যা পৌঁছাতে সময় নেয় ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।
প্রশ্ন ২: ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সবচেয়ে কম ভাড়া কত?
উত্তর: সবচেয়ে কম ভাড়া মেইল ট্রেনের শোভন শ্রেণিতে ২৮৫ টাকা। এছাড়া কমিউটার ট্রেনে সুলভ শ্রেণিতে মাত্র ১৪৫-১৭৫ টাকায় চট্টগ্রাম যাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৩: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনে এসি বার্থ/কেবিনের ভাড়া কত?
উত্তর: এসি বার্থ বা কেবিনের ভাড়া ১,৩৯৮ টাকা। এসি চেয়ার সিটের ভাড়া ১,০২৫ টাকা। এসি কেবিন সুবিধা আছে মহানগর এক্সপ্রেস ও তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনে।
প্রশ্ন ৪: অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটতে কোন ওয়েবসাইট ব্যবহার করব?
উত্তর: একমাত্র অফিসিয়াল মাধ্যম হলো বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd)। এছাড়া Rail Sheba মোবাইল অ্যাপ থেকেও টিকিট করা যায়।
প্রশ্ন ৫: রাতে যাত্রা করার জন্য কোন ট্রেন ভালো?
উত্তর: রাতের বেলায় ভ্রমণের জন্য মহানগর এক্সপ্রেস (রাত ৯:২০ টা) এবং তূর্ণা এক্সপ্রেস (রাত ১১:১৫ টা) উত্তম। দুটি ট্রেনই ভোরের দিকে চট্টগ্রাম পৌঁছায়, ফলে দিনের কাজের জন্য সময় থাকে।
প্রশ্ন ৬: কোন ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি আছে?
উত্তর: সুবর্ণা এক্সপ্রেস সোমবার, মহানগর এক্সপ্রেস রবিবার, সোনার বাংলা এক্সপ্রেস বুধবার, কক্সবাজার এক্সপ্রেস বুধবার ও পর্যটক এক্সপ্রেস রবিবার বন্ধ থাকে। মহানগর প্রভাতী ও তূর্ণা এক্সপ্রেসের কোনো ছুটি নেই।
প্রশ্ন ৭: চট্টগ্রাম থেকে ফেরার সময় একই ট্রেনে আসা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ। প্রতিটি ট্রেনেরই চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার জন্য বিপরীত সময়সূচী আছে। যেমন সুবর্ণা এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে রাত ১০:৪০ টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছায় ভোর ৩:২৫ টায়।



