Train Station

ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ (সকল ট্রেনের আপডেট তালিকা)

ভৈরব বাজার জংশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ট্রেনে চড়েন। অফিস, ব্যবসা বা প্রয়োজনে যাদের নিয়মিত ঢাকা যেতে হয়, তাদের জন্য সঠিক ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী জানাটা সময় ও টাকা দুই-ই বাঁচায়। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ট্রেন ছাড়ে। এই পোস্টে আমরা ভৈরব থেকে ঢাকাগামী সকল আন্তঃনগর, মেইল ও কমিউটার ট্রেনের ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময়, ভাড়া এবং টিকিট সংগ্রহের পদ্ধতি বিশদভাবে তুলে ধরেছি।

ভৈরব থেকে ঢাকা রুটে মোট কটি ট্রেন চলে?

ভৈরব বাজার জংশন বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। এখান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন প্রায় ১৩টি আন্তঃনগর ট্রেন ও বেশ কয়েকটি কমিউটার ও মেইল ট্রেন চলাচল করে। এই রুটটি অত্যন্ত ব্যস্ত হওয়ায় যাত্রীদের সুবিধার জন্য ভোর ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত—প্রায় সারাদিনই ট্রেনের ব্যবস্থা আছে।

ভৈরব টু ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচী (বিস্তারিত সারণি)

নিচের টেবিলে ভৈরব থেকে ঢাকাগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের নাম, নম্বর, ছাড়ার সময়, পৌঁছানোর সময় ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন তুলে ধরা হয়েছে:

ভোর ও সকালের ট্রেন

ট্রেনের নাম ও নম্বর ভৈরব ছাড়ার সময় ঢাকা পৌঁছার সময় সাপ্তাহিক ছুটি যাত্রা সময়
তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) ০৩:৩৩ AM (রাত) ০৫:১০ AM কোনো ছুটি নেই ১ ঘ. ৩৭ মি.
উপবন এক্সপ্রেস (৭৪০) ০৪:০৬ AM ০৫:৪০ AM সোমবার ১ ঘ. ৩৪ মি.
এগারো সিন্ধুর প্রভাতী (৭৩৮) ০৮:২০ AM ১০:৩৫ AM কোনো ছুটি নেই ২ ঘ. ১৫ মি.
চট্টলা এক্সপ্রেস (৮০১) ১০:৫৩ AM ১২:৪০ PM শুক্রবার ১ ঘ. ৪৭ মি.

দুপুর ও বিকেলের ট্রেন

ট্রেনের নাম ও নম্বর ভৈরব ছাড়ার সময় ঢাকা পৌঁছার সময় সাপ্তাহিক ছুটি যাত্রা সময়
কালনী এক্সপ্রেস (৭৭৪) ১১:১৩ AM ১২:৫৫ PM শুক্রবার ১ ঘ. ৪২ মি.
এগারো সিন্ধুর গোধূলী (৭৫০) ০৩:০০ PM ০৪:৪৫ PM বুধবার ১ ঘ. ৪৫ মি.
মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১) ০৪:৫৭ PM ০৬:৪০ PM রবিবার ১ ঘ. ৪৩ মি.
কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮২) ০৫:৪৮ PM ০৮:০০ PM শুক্রবার ২ ঘ. ১২ মি.

সন্ধ্যা ও রাতের ট্রেন

ট্রেনের নাম ও নম্বর ভৈরব ছাড়ার সময় ঢাকা পৌঁছার সময় সাপ্তাহিক ছুটি যাত্রা সময়
মহানগর গোধূলী (৭০৩) ০৭:০৮ PM ০৮:৪৫ PM কোনো ছুটি নেই ১ ঘ. ৩৭ মি.
পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০) ০৮:৫৮ PM ১০:৪০ PM সোমবার ১ ঘ. ৪২ মি.

দ্রুতগামী ট্রেন: তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১), উপবন এক্সপ্রেস (৭৪০) ও মহানগর গোধূলী (৭০৩)-এ মাত্র ১ ঘণ্টা ৩৪-৩৭ মিনিটে ঢাকা পৌঁছানো যায়।

আপনার জন্যঃ ঢাকা টু চট্টগ্রাম ট্রেনের সময়সূচী 

ভৈরব টু ঢাকা কমিউটার ও মেইল ট্রেনের সময়সূচী

আন্তঃনগর ট্রেনের তুলনায় কমিউটার ও মেইল ট্রেনের ভাড়া কম, তবে সময় বেশি লাগে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ কমিউটার ট্রেনের তথ্য দেওয়া হলো।

নরসিংদী কমিউটার-১ (ভৈরব থেকে ঢাকা)

  • ভৈরব ছাড়ে: সকাল ০৭:৪৫ টায়
  • নরসিংদী পৌঁছায়: সকাল ০৮:১০ টায়
  • ঢাকা কমলাপুর পৌঁছায়: সকাল ০৯:০৫ টায়
  • যাত্রাবিরতি: দৌলতকান্দি, মেথিকান্দা, নরসিংদী, ঘোরাশাল, আড়িখোলা, টঙ্গী, ঢাকা বিমানবন্দর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও তেজগাঁও
  • সাপ্তাহিক ছুটি: নেই (সাত দিনই চলে)

ভৈরব থেকে ঢাকার ট্রেনের ভাড়া তালিকা (২০২৬)

ট্রেনের ভাড়া আসনের শ্রেণি ও ট্রেনের ধরণ অনুযায়ী ভিন্ন হয়। নিচে বিস্তারিত ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো।

আন্তঃনগর ট্রেনের ভাড়া

  • শোভন (দ্বিতীয় শ্রেণি): ৮৫ টাকা
  • শোভন চেয়ার: ১০৫ – ১২৫ টাকা
  • প্রথম শ্রেণি চেয়ার (এফ-সিট): ১৫৬ – ১৯০ টাকা
  • প্রথম শ্রেণি বার্থ (এফ-বার্থ): ২০৫ – ২৩৬ টাকা
  • স্নিগ্ধা (নন-এসি চেয়ার): ১৯৬ – ২৩৬ টাকা
  • এসি চেয়ার সিট (এসি-এস): ২৩৬ – ২৮২ টাকা
  • এসি বার্থ (এসি-বি): ৩৫১ – ৪৭৬ টাকা

কমিউটার ট্রেনের ভাড়া

  • শোভন (দ্বিতীয় শ্রেণি): ৫৫ টাকা

সস্তায় যেতে চাইলে: কমিউটার ট্রেনের শোভন শ্রেণিতে ৫৫ টাকা।
আরামে যেতে চাইলে: তূর্ণা বা মহানগর গোধূলীর এসি বার্থ (৩৫১ টাকা) অথবা স্নিগ্ধা/প্রথম শ্রেণি বেছে নিতে পারেন।

টিকিট বুকিংয়ের পদ্ধতি (অনলাইন ও অফলাইন)

ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী জানার পর টিকিট সংগ্রহের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। টিকিট দুইভাবে নেওয়া যায়।

অনলাইনে টিকিট বুকিং

বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকেটিং পোর্টালে (eticket.railway.gov.bd) ঘরে বসেই টিকিট কাটা যায়। ধাপগুলো হলো:

  1. ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করে লগইন করুন
  2. রুট নির্বাচন করুন: ভৈরব বাজার → ঢাকা
  3. যাত্রার তারিখ ও ট্রেন সিলেক্ট করুন
  4. আসনের শ্রেণি ও পছন্দের আসন বাছাই করুন
  5. বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করুন
  6. টিকিট ডাউনলোড করে রাখুন (ভ্রমণের সময় দেখাতে হবে)

কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ

যারা অনলাইন ব্যবহার করতে পারেন না, তারা ভৈরব বাজার রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কিনতে পারেন। ট্রেন ছাড়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কাউন্টারে পৌঁছানো ভালো।

টিপস: জনপ্রিয় ট্রেনের টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই ই-টিকেটিং পোর্টাল ব্যবহার করাই সবচেয়ে সুবিধাজনক।

ভৈরব বাজার রেলস্টেশন সম্পর্কে তথ্য

ভৈরব বাজার জংশন নরসিংদী জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন। এই স্টেশনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রুটের একটি প্রধান কেন্দ্র। স্টেশন চত্বরে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাগৃহ, টিকিট কাউন্টার, খাবারের দোকান ও বিশ্রামাগার আছে। স্টেশনে ট্রেন ছাড়া-আসার তথ্যের জন্য নোটিশ বোর্ড ও সাউন্ড সিস্টেম রয়েছে।

ট্রেন ভ্রমণের পূর্বে করণীয় টিপস

ভৈরব থেকে ঢাকায় ট্রেনে ভ্রমণ আরামদায়ক করতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন:

  • ট্রেনের সঠিক সময় জেনে নিন—উপরের টেবিল অনুযায়ী আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের সময় দেখে নিন।
  • ট্রেন ছাড়ার অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছে যান।
  • ভিড় এড়াতে চাইলে মধ্য দুপুরের ট্রেন (যেমন: চট্টলা বা কালনী) বেছে নিতে পারেন।
  • রাতে ভ্রমণ করলে উষ্ণ পোশাক সঙ্গে রাখুন (এসি বার্থে ঠান্ডা বেশি থাকে)।
  • মহিলা যাত্রীদের জন্য আলাদা কোচ আছে, প্রয়োজনে সেখানে যেতে পারেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী সবচেয়ে তাড়াতাড়ি ঢাকা পৌঁছায় কোন ট্রেনে?
উত্তর: সবচেয়ে কম সময় নেয় উপবন এক্সপ্রেস (৭৪০)—মাত্র ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট। তূর্ণা এক্সপ্রেস (৭৪১) ও মহানগর গোধূলী (৭০৩)-ও ১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিটে পৌঁছে দেয়।

প্রশ্ন ২: ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়া সবচেয়ে কম কত?
উত্তর: সবচেয়ে কম ভাড়া কমিউটার ট্রেনের শোভন শ্রেণিতে ৫৫ টাকা। আন্তঃনগর ট্রেনের শোভন শ্রেণির ভাড়া ৮৫ টাকা।

প্রশ্ন ৩: ভৈরব থেকে ঢাকা কোন ট্রেনটি সবচেয়ে আরামদায়ক?
উত্তর: আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য মহানগর গোধূলী (৭০৩)পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০)-এর এসি বার্থ বা স্নিগ্ধা শ্রেণি ভালো।

প্রশ্ন ৪: ভৈরব টু ঢাকা ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কিভাবে কাটব?
উত্তর: বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) এ অ্যাকাউন্ট খুলে লগইন করে রুট, ট্রেন ও আসন নির্বাচন করে অনলাইন পেমেন্ট করতে হবে।

প্রশ্ন ৫: সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সম্পর্কে জানতে চাই?
উত্তর: উপবন এক্সপ্রেস ও পারাবত এক্সপ্রেস সোমবার বন্ধ। চট্টলা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেস ও কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস শুক্রবার বন্ধ। এগারো সিন্ধুর গোধূলী বুধবার বন্ধ। তূর্ণা ও মহানগর গোধূলীর কোনো ছুটি নেই।

প্রশ্ন ৬: ভৈরব থেকে ঢাকার কমিউটার ট্রেন কখন ছাড়ে?
উত্তর: নরসিংদী কমিউটার-১ ভৈরব থেকে সকাল ০৭:৪৫ টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছায় সকাল ০৯:০৫ টায়।

প্রশ্ন ৭: ভৈরব থেকে ঢাকায় সবচেয়ে শেষ ট্রেন কোনটি?
উত্তর: সবচেয়ে শেষ ট্রেন হলো পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০), যা ভৈরব ছাড়ে রাত ০৮:৫৮ টায় এবং ঢাকা পৌঁছায় রাত ১০:৪০ টায়।

সাত্তার হোসাইন শিহাব

সাত্তার হোসাইন বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন নিবেদিতপ্রাণ স্টেশন মাস্টার। দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই পেশাদার ট্রেনের নিরাপদ চলাচল ও স্টেশনের দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের রেলসেবা উন্নত করতে নিরলস অবদান রেখে চলেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button