মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ সালে সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকলে আপনার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল ভ্রমণ অনেক সহজ ও আরামদায়ক হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী আন্তঃনগর ট্রেন হলো মহানগর এক্সপ্রেস। ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করা এই ট্রেনটি দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা রুটে যাত্রী সেবা দিয়ে আসছে। যারা দ্রুত সময়ে এবং কম খরচে এই রুটে যাতায়াত করতে চান, তাদের জন্য মহানগর এক্সপ্রেস প্রথম পছন্দ। আজকের আর্টিকেলে আমরা এই ট্রেনের নতুন সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা, স্টপেজ এবং টিকেট কাটার নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জোনের অধীনে পরিচালিত হয়। এই ট্রেনের নম্বর হলো ৭২১ (চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা) এবং ৭২২ (ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম)। ৩২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রাপথে ট্রেনটি অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে যাত্রী পরিবহন করে। যারা রাতের বেলা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যেতে পছন্দ করেন অথবা দুপুরের পর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসতে চান, তাদের জন্য এই ট্রেনের সময়সূচী আদর্শ। এটি মূলত একটি মিটারগেজ ট্রেন এবং এতে উন্নত আসন ব্যবস্থা ও খাবারের সুবিধা রয়েছে।
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ (আপডেটেড)
২০২৬ সালের নতুন আপডেট অনুযায়ী বাংলাদেশ রেলওয়ে মহানগর এক্সপ্রেসের সময়সূচীতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে নিচে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম উভয় রুটের সময়সূচী টেবিল আকারে দেওয়া হলো।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা মহানগর এক্সপ্রেস (৭২১) সময়সূচী
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে এই ট্রেনটি প্রতিদিন দুপুরে যাত্রা শুরু করে। নিচে এর বিস্তারিত স্টপেজ ও সময় দেওয়া হলো:
| স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
| চট্টগ্রাম জংশন | — | ১২:৩০ PM |
| কুমিরা | ১২:৫৪ PM | ১২:৫৫ PM |
| ফেনী | ০১:৫৪ PM | ০১:৫৬ PM |
| নাঙ্গলকোট | ০২:২০ PM | ০২:২২ PM |
| লাকসাম | ০২:৩৮ PM | ০২:৪০ PM |
| কুমিল্লা | ০৩:০৫ PM | ০৩:০৭ PM |
| কসবা | ০৩:৩৭ PM | ০৩:৩৯ PM |
| আখাউড়া | ০৪:০৫ PM | ০৪:০৮ PM |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ০৪:২৮ PM | ০৪:৩০ PM |
| আশুগঞ্জ | ০৪:৪৫ PM | ০৪:৪৭ PM |
| ভৈরব বাজার | ০৪:৫৫ PM | ০৪:৫৭ PM |
| নরসিংদী | ০৫:২৮ PM | ০৫:৩০ PM |
| ঢাকা (কমলাপুর) | ০৬:৪০ PM | — |
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম মহানগর এক্সপ্রেস (৭২২) সময়সূচী
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে এই ট্রেনটি রাতের বেলা চলাচল করে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে এটি রাত ৯টা ২০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে।
| স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
| ঢাকা (কমলাপুর) | — | ০৯:২০ PM |
| বিমানবন্দর | ০৯:৪৫ PM | ০৯:৪৮ PM |
| নরসিংদী | ১০:২৮ PM | ১০:৩০ PM |
| ভৈরব বাজার | ১১:০১ PM | ১১:০৩ PM |
| আশুগঞ্জ | ১১:১১ PM | ১১:১৩ PM |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ১১:৩০ PM | ১১:৩২ PM |
| আখাউড়া | ১১:৫৫ PM | ১১:৫৮ PM |
| কসবা | ১২:১৪ AM | ১২:১৬ AM |
| কুমিল্লা | ১২:৪৬ AM | ১২:৪৮ AM |
| লাকসাম | ০১:১০ AM | ০১:১২ AM |
| নাঙ্গলকোট | ০১:২৬ AM | ০১:২৮ AM |
| ফেনী | ০১:৫৩ AM | ০১:৫৫ AM |
| কুমিরা | ০২:৫৩ AM | ০২:৫৫ AM |
| চট্টগ্রাম জংশন | ০৩:৩০ AM | — |
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ে দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে মহানগর এক্সপ্রেসের ভাড়া নির্ধারণ করেছে। এই ট্রেনে সাধারণত তিন ধরণের আসন ব্যবস্থা থাকে: শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) এবং এসি বার্থ। নিচে ২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো:
- শোভন চেয়ার: ৪০৫ টাকা (সাধারণ আরামদায়ক আসন)
- স্নিগ্ধা (AC): ৭৭৭ টাকা (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ)
- এসি বার্থ: ১৩৯৮ টাকা (রাতের ভ্রমণের জন্য ঘুমানোর ব্যবস্থা)
ভ্রমণের আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা “Rail Sheba” অ্যাপ থেকে বর্তমান ভাড়া যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ ও আসন ব্যবস্থা
মহানগর এক্সপ্রেসে যাত্রীদের জন্য আধুনিক ও উন্নত মানের কোচ যুক্ত করা হয়েছে। এই ট্রেনে শোভন চেয়ার কোচগুলো বেশ পরিচ্ছন্ন এবং দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য উপযোগী। যারা একটু আভিজাত্য পছন্দ করেন তারা স্নিগ্ধা বা এসি বার্থ বেছে নিতে পারেন। প্রতিটি কোচে পর্যাপ্ত ফ্যান, লাইট এবং মোবাইল চার্জিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এছাড়া ট্রেনে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস হিসেবে খাবার কেনার সুযোগও থাকে।
মহানগর এক্সপ্রেস বন্ধের দিন
অনেকেই মহানগর এক্সপ্রেসের ছুটির দিন সম্পর্কে জানতে চান। মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। প্রতি রবিবার এই ট্রেনটি বন্ধ থাকে। অর্থাৎ রবিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম বা চট্টগ্রাম-ঢাকা কোনো পথেই মহানগর এক্সপ্রেস চলাচল করে না। তবে সপ্তাহের বাকি ৬ দিন এটি নিয়মিত সেবা প্রদান করে।
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম
২০২৬ সালে ট্রেনের টিকেট কাটা এখন অনেক সহজ। আপনি চাইলে অনলাইন বা অফলাইন দুই ভাবেই টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন।
১. অনলাইন পদ্ধতি: বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা ‘Rail Sheba’ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই টিকেট কাটা যায়। এনআইডি ভেরিফিকেশন করার পর পেমেন্ট গেটওয়ের (বিকাশ, নগদ, রকেট বা কার্ড) মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করলেই ই-টিকিট পাওয়া যায়।
২. অফলাইন পদ্ধতি: ঢাকা কমলাপুর স্টেশন, বিমানবন্দর স্টেশন বা চট্টগ্রাম স্টেশনের কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকেট সংগ্রহ করা যায়। তবে অগ্রিম টিকেটের জন্য যাত্রার অন্তত ৩-৫ দিন আগে কাউন্টারে যাওয়া ভালো।
মহানগর এক্সপ্রেস এখন কোথায় জানবেন যেভাবে
ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানার জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এসএমএস সার্ভিস চালু রেখেছে। মহানগর এক্সপ্রেস এখন কোথায় আছে তা জানতে আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে যান।
- টাইপ করুন: TR <space> 721 (চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার জন্য) অথবা 722 (ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের জন্য)।
- পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নম্বরে।
- ফিরতি মেসেজে আপনি ট্রেনের বর্তমান অবস্থান এবং পরবর্তী স্টেশনের তথ্য জানতে পারবেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ভ্রমণের কিছু টিপস
- ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
- ভ্রমণের সময় আপনার ব্যক্তিগত মালামাল ও মোবাইলের দিকে খেয়াল রাখুন।
- যদিও ট্রেনে খাবার পাওয়া যায়, তবুও স্বাস্থ্য সচেতন যাত্রীরা বাসা থেকে হালকা খাবার ও পানি সাথে রাখতে পারেন।
- অনলাইন টিকেট কাটলে সেটির প্রিন্ট কপি বা মোবাইল ভিউ সাথে রাখুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
মহানগর এক্সপ্রেসের কোড নম্বর কত?
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য মহানগর এক্সপ্রেসের কোড নম্বর ৭২২ এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার জন্য ৭২১।
মহানগর এক্সপ্রেস কি প্রতিদিন চলে?
না, মহানগর এক্সপ্রেস সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। রবিবার এই ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বা বন্ধের দিন।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
সময়সূচী অনুযায়ী মহানগর এক্সপ্রেসের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে প্রায় ৬ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লাগে। তবে রেললাইনের কাজ বা জংশন ক্রসিংয়ের কারণে কিছুটা সময় কম-বেশি হতে পারে।
মহানগর এক্সপ্রেস কি বিমানবন্দর স্টেশনে থামে?
হ্যাঁ, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে মহানগর এক্সপ্রেস বিমানবন্দর স্টেশনে ৩ মিনিটের জন্য যাত্রা বিরতি দেয়।
মহানগর এক্সপ্রেসে কি খাবার পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, মহানগর এক্সপ্রেসে একটি নির্দিষ্ট ডাইনিং কার বা ক্যান্টিন থাকে যেখানে স্ন্যাকস, চা, কফি এবং বিরিয়ানি বা খিচুড়ির মতো খাবার পাওয়া যায়।
শেষ কথা
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬ সম্পর্কে এই ছিল আমাদের বিস্তারিত আলোচনা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতের জন্য এটি অন্যতম একটি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম। যাত্রা করার আগে অবশ্যই টিকেটের প্রাপ্যতা এবং সর্বশেষ সময়সূচী বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করে নিন। আপনার ট্রেন ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হোক।



