বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য একটি আশীর্বাদস্বরূপ। বিশেষ করে লালমনিরহাট এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য এই ট্রেনটি যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অন্যতম জনপ্রিয় এই আন্তঃনগর ট্রেনটি অত্যন্ত আধুনিক ও আরামদায়ক। আপনি যদি ঢাকা থেকে বুড়িমারী কিংবা বুড়িমারী থেকে ঢাকা যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তবে আপনার যাত্রাকে সহজ করতে বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী এবং ভাড়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। আজকের পোষ্টে আমরা ২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী এই ট্রেনের খুঁটিনাটি সব তথ্য শেয়ার করব।
বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি নিয়মিতভাবে ঢাকা (কমলাপুর) থেকে বুড়িমারী এবং বুড়িমারী থেকে ঢাকা রুটে চলাচল করে। দীর্ঘ এই পথের যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। ২০২৬ সালের নতুন আপডেট অনুযায়ী ট্রেনের প্রস্থানের সময় নিচে দেওয়া হলো।
এই ট্রেনটি ঢাকা থেকে বুড়িমারী যাওয়ার সময় ৮০৯ নম্বর ট্রেন হিসেবে পরিচিত এবং বুড়িমারী থেকে ঢাকা ফেরার সময় ৮১০ নম্বর ট্রেন হিসেবে পরিচিত। তবে সরাসরি বুড়িমারী পর্যন্ত যাত্রার ক্ষেত্রে অনেক সময় লালমনিরহাট স্টেশনে কানেক্টিং শাটল বা বগি পরিবর্তনের বিষয় থাকে, যা যাত্রীদের স্টেশনে আগেভাগে জেনে নেওয়া উচিত।
| ট্রেনের নাম ও নম্বর | ছাড়ার স্থান | গন্তব্য | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় |
| বুড়িমারী এক্সপ্রেস (৮০৯) | ঢাকা | বুড়িমারী | সকাল ০৮:৩০ | রাত ২০:২০ |
| বুড়িমারী এক্সপ্রেস (৮১০) | বুড়িমারী | ঢাকা | সকাল ১১:২০ | ভোর ০৪:০১ |
আপনার যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব সময় ট্রেনের নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করবেন। কারণ সময়সূচী যে কোনো সময় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ২০২৬
ভ্রমণের আগে ট্রেনের ভাড়া সম্পর্কে জানা থাকলে বাজেট করতে সুবিধা হয়। বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনে বিভিন্ন শ্রেণির আসন ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি আপনার সাধ্য ও পছন্দ অনুযায়ী আসন নির্বাচন করতে পারেন। ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| আসনের বিভাগ | টিকিটের মূল্য (টাকা) |
| শোভন চেয়ার (Shuvon Chair) | ৬৩৫ টাকা |
| স্নিগ্ধা (Snigdha/AC Chair) | ১২১৪ টাকা |
| এসি সিট (AC Seat) | ১৪৫৫ টাকা |
| এসি বার্থ (AC Berth) | ২১৮০ টাকা |
উল্লেখ্য যে, ভাড়ার এই হার সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে। অনলাইনে বা স্টেশনে টিকিট কাটার সময় ভ্যাট বা অনলাইন চার্জ যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে উৎসবের সময় টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, তাই আগেভাগে টিকিট সংগ্রহ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ বা যাত্রা বিরতি
ঢাকা থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত বিশাল এই যাত্রাপথে ট্রেনটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেয়। এই স্টপেজগুলো জানার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন ট্রেনটি আপনার গন্তব্যের কাছাকাছি থামবে কি না।বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী স্টপেজগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
- ঢাকা (কমলাপুর)
- বিমানবন্দর
- ঈশ্বরদী বাইপাস
- নাটোর
- সান্তাহার
- বগুড়া
- বোনারপাড়া
- গাইবান্ধা
- কাউনিয়া
- লালমনিরহাট
- তুষভাণ্ডার
- হাতিবান্ধা
- বড়খাতা
- পাটগ্রাম
- বুড়িমারী
এই স্টেশনগুলোতে যাত্রীরা ওঠা-নামা করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, সব স্টেশনে ট্রেন দীর্ঘক্ষণ থামে না, তাই দ্রুত নামার প্রস্তুতি রাখা জরুরি।
বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম
বর্তমানে ট্রেনের টিকিট কাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। আপনি দুইভাবে বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন:
১. সরাসরি কাউন্টার থেকে
যেকোনো বড় রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে আপনি গন্তব্য এবং তারিখ জানিয়ে টিকিট কাটতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।
২. অনলাইন টিকিট বুকিং
বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) অথবা ‘Rail Sheba’ অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজে টিকিট কাটা যায়। অনলাইনে টিকিট কাটার ধাপগুলো হলো:
- রেলওয়ের পোর্টালে লগইন করুন।
- প্রস্থান এবং গন্তব্য স্টেশন নির্বাচন করুন।
- যাত্রার তারিখ এবং ক্লাসের ধরন বেছে নিন।
- আপনার পছন্দের আসন সিলেক্ট করুন।
- বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
- ই-টিকিটটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন অথবা মোবাইলে সেভ রাখুন।
বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ
ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিনটি জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ নির্দিষ্ট দিনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বা অফ-ডে হলো:
- ঢাকা থেকে (৮০৯): প্রতি মঙ্গলবার।
- বুড়িমারী থেকে (৮১০): প্রতি সোমবার।
আপনার ভ্রমণের তারিখ যদি এই দিনগুলোর মধ্যে পড়ে, তবে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা বা অন্য কোনো দিনের টিকিট কাটা ভালো।
বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেন এখন কোথায় (লাইভ লোকেশন)
অনেক সময় ট্রেন দেরি করে বা সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌঁছাতে পারে না। আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনটি বর্তমানে কোন স্টেশনে আছে বা কোথায় অবস্থান করছে তা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানা সম্ভব।
বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের লোকেশন ট্র্যাক করার নিয়ম:
আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন TR [Space] 810 (ঢাকা ফেরার ট্রেনের জন্য) অথবা TR [Space] 809 (ঢাকা থেকে যাওয়ার ট্রেনের জন্য) এবং পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নম্বরে। ফিরতি মেসেজে আপনাকে জানানো হবে ট্রেনটি এখন কোথায় আছে এবং পরবর্তী স্টেশনে কখন পৌঁছাবে। এর জন্য নির্দিষ্ট চার্জ প্রযোজ্য হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
বুড়িমারী এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে কয়টায় ছাড়ে?
বুড়িমারী এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে প্রতিদিন সকাল ০৮:৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে।
বুড়িমারী থেকে ঢাকা পৌঁছাতে কত সময় লাগে?
বুড়িমারী থেকে সকাল ১১:২০ মিনিটে ছেড়ে ট্রেনটি পরদিন ভোর ০৪:০১ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। অর্থাৎ প্রায় ১৬-১৭ ঘণ্টা সময় লাগে।
ট্রেনের টিকিট কত দিন আগে কাটা যায়?
সাধারণত যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে অনলাইন এবং কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট পাওয়া যায়।
বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনে কি খাবার পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, ট্রেনের ভেতরে নির্দিষ্ট ক্যান্টিন বা ক্যাটারিং সার্ভিস থাকে যেখানে চা, নাস্তা এবং দুপুরের খাবার পাওয়া যায়। তবে নিজের সাথে হালকা শুকনো খাবার রাখা নিরাপদ।
শেষ কথা
বুড়িমারী এক্সপ্রেস উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য যোগাযোগের এক নির্ভরযোগ্য নাম। দীর্ঘ পথের ক্লান্তি দূর করতে আরামদায়ক আসন এবং উন্নত সেবা এই ট্রেনটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। আমরা চেষ্টা করেছি বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ এবং ভাড়ার আপডেট তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরতে। ট্রেন ভ্রমণের সময় অবশ্যই নিজের মালামাল সাবধানে রাখবেন এবং ট্রেনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন। আপনার রেল ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হোক।



