সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া সম্পর্কে জানতে চান কী? তাহলে আপনার জন্য আজকের আমাদের এই আর্টিকেলটি। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম কিংবা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এই রুটে যারা নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন তাদের কাছে সুবর্ণ এক্সপ্রেস একটি অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম। দ্রুতগতি ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য এই ট্রেনটি যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। আপনি যদি এই ট্রেনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন তাহলে যাত্রার আগে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার আপডেট তথ্য জেনে নেওয়া জরুরি। আজকের এই আর্টিকেলে আজ আমরা সুবর্ণ এক্সপ্রেসের সময়সূচী জানানোর পাশাপাশি টিকেটের দাম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে পরিচালিত আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মধ্যে সুবর্ণ এক্সপ্রেস অন্যতম একটি লাক্সারি সার্ভিস। ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া এই ট্রেনটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এটি মূলত একটি বিরতিহীন ট্রেন হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে বর্তমানে এটি ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি দিয়ে থাকে। আপনি যদি কম সময়ে ও যানজটমুক্তভাবে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে চান তাহলে সুবর্ণ এক্সপ্রেস হবে আপনার সেরা পছন্দ।
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী
যেকোনো ভ্রমণের প্রধান বিষয় হলো সময়। সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে এটি বন্ধ থাকে। নিচে এই ট্রেনের যাতায়াতের সঠিক সময় দেওয়া হলো:
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা (৭০১)
সুবর্ণ এক্সপ্রেস (৭০১) প্রতিদিন বিকেল ৪:৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে ও রাত ৯:২৫ মিনিটে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম (৭০২)
ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সুবর্ণ এক্সপ্রেস (৭০২) প্রতিদিন সকাল ৭:৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে ও দুপুর ১২:২৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়।
| ট্রেনের নাম | ট্রেন নম্বর | ছাড়ার স্থান | গন্তব্য | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | বন্ধের দিন |
| সুবর্ণ এক্সপ্রেস | ৭০১ | চট্টগ্রাম | ঢাকা | ১৬:৩০ | ২১:২৫ | সোমবার |
| সুবর্ণ এক্সপ্রেস | ৭০২ | ঢাকা | চট্টগ্রাম | ০৭:৩০ | ১২:২৫ | সোমবার |
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতিস্থল ও স্টেশনের তালিকা
সুবর্ণ এক্সপ্রেস মূলত একটি বিরতিহীন ট্রেন হলেও যাত্রীদের সুবিধার্থে এটি ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে সামান্য সময়ের জন্য থেমে থাকে। নিচে এর বিরতি ও স্টেশনের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে:
- চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রার প্রারম্ভিক বা শেষ বিন্দু।
- ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি কয়েক মিনিটের জন্য বিরতি দেয় যাতে যাত্রীরা নামতে বা উঠতে পারেন।
- ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে এটি এই ট্রেনের প্রধান গন্তব্য বা যাত্রার শুরু হয়।
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভিন্ন শ্রেণীর আসনের ওপর ভিত্তি করে ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে। সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেটের মূল্য অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় কিছুটা আলাদা হতে পারে কারণ সুবর্ণ এক্সপ্রেস একটি বিশেষ বিরতিহীন ট্রেন। নিচে সর্বশেষ ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো:
| আসনের বিভাগ | টিকেটের মূল ভাড়া | ভ্যাট (১৫%) | মোট ভাড়া |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ৮০৫ টাকা | ১২০ টাকা | ৯২৫ টাকা |
| এসি সিট (AC Seat) | ৯৬৫ টাকা | ১৪৫ টাকা | ১১১০ টাকা |
| এসি বার্থ (AC Berth) | ১৪৪৫ টাকা | ২১৮ টাকা | ১৬৬৩ টাকা |
| শোভন চেয়ার (Non-AC) | ৪৫০ টাকা | প্রযোজ্য নয় | ৪৫০ টাকা |
দ্রষ্টব্য: রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় ভাড়ার হার পরিবর্তন করতে পারে। টিকেটে উল্লেখিত ভাড়াই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট কাটার নিয়ম ২০২৬
আপনি দুইভাবে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন। একটি হলো সরাসরি স্টেশনে গিয়ে এবং অন্যটি অনলাইন বা অ্যাপের মাধ্যমে।
অনলাইন টিকেট বুকিং
বর্তমান সময়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কাটার ঝামেলা থেকে বাঁচতে অনলাইনে টিকেট কাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
- বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) এ প্রবেশ করুন।
- আপনার নাম, মোবাইল নম্বর এবং এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
- যে তারিখে ভ্রমণ করতে চান সেই তারিখ এবং গন্তব্য নির্বাচন করুন।
- পেমেন্ট সম্পন্ন করে আপনার ই-টিকেটটি ডাউনলোড করে নিন।
কাউন্টার টিকেট
আপনি যদি অনলাইনে টিকেট না পেয়ে থাকেন তাহলে যাত্রার কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম বা ঢাকা কমলাপুর স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন যে, সুবর্ণ এক্সপ্রেসের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তাই অন্তত ৫-৭ দিন আগে টিকেট কেটে রাখা ভালো।
ট্রেনের কোচের ধরন ও সুযোগ-সুবিধা
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি মূলত এসি ও নন-এসি উভয় ধরণের কোচ দিয়ে সাজানো। তবে এই ট্রেনের অধিকাংশ কোচই এসি। নিচে বিস্তারিত তথ্য সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে:
- সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের প্রতিটি সিট বেশ চওড়া ও আরামদায়ক।
- ট্রেনের ভেতরে নিজস্ব ক্যাটারিং সার্ভিস রয়েছে। আপনি চাইলে টাকা দিয়ে চা, নাস্তা বা দুপুরের খাবার কিনে খেতে পারেন।
- প্রতিটি কোচে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেট ও নামাজের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে।
যাত্রা শুরুর আগে কিছু প্রয়োজনীয় টিপস
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণকালে আপনি বেশ কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন। এসকল টিপস অনুসরণ করলে আপনার ট্রেন ভ্রমণ আপনার জন্য আরো সহজ হয়ে উঠবে। যেমন:
- ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
- বর্তমানে টিকেট কাটার জন্য এবং ভ্রমনের সময় সাথে এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধনের কপি রাখা বাধ্যতামূলক।
- আপনার মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখুন এবং অপরিচিত কারো দেওয়া কোনো খাবার গ্রহণ করবেন না।
- মনে রাখবেন যে,সোমবার এই ট্রেনটি চলাচল করে না। তাই সোমবারের জন্য অন্য কোনো ট্রেন (যেমন সোনার বাংলা এক্সপ্রেস) বেছে নিন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সম্পর্কে অনেকেই কম বেশি প্রশ্ন করে থাকেন। আপনাদের সুবিধার্থে এসকল প্রশ্নের উওর নিম্নে উপস্থাপন করা হয়েছে:
সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি কি প্রতিদিন চলে?
না, সুবর্ণ এক্সপ্রেস সপ্তাহে ৬ দিন চলে। প্রতি সোমবার এই ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটি থাকে।
সুবর্ণ এক্সপ্রেস কি কুমিল্লা স্টেশনে থামে?
না, সুবর্ণ এক্সপ্রেস একটি বিরতিহীন ট্রেন। এটি চট্টগ্রাম ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াতের সময় শুধু ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে থাকে।
শিশুদের জন্য কি আলাদা টিকেটের প্রয়োজন হয়?
৫ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য পূর্ণ মূল্যের টিকেটের প্রয়োজন হয়। ৫ বছরের নিচে হলে সাধারণত টিকেটের প্রয়োজন পড়ে না যদি তারা সিট দখল না করে।
অনলাইনে টিকেট কাটার কতক্ষণ আগে স্টেশনে যেতে হবে?
অনলাইনে টিকেট কাটলে আপনার কাছে ই-টিকেট থাকবে। ট্রেন ছাড়ার অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে স্টেশনে গিয়ে বসার আসন নিশ্চিত করা ভালো।
শেষ কথা
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে নিরাপদ ও দ্রুত ভ্রমণের জন্য সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার কারণে সকল মানুষের কাছে পছন্দের। আশা করি আমাদের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট ও ভাড়ার তালিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পেরেছি। আর্টিকেলটি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকলে নিরদ্বিধায় কমেন্ট করে মতামত জানান।



