BD Express Train
Trending

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও এর যাত্রা পথের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আমাদের আজকের এই বিশেষ আর্টিকেল। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোণা জেলা এবং হাওর জনপদের মানুষের জন্য রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগের এক অনন্য মাধ্যম হলো এই ট্রেন। আরামদায়ক যাত্রা এবং সাশ্রয়ী ভাড়ার কারণে নেত্রকোণা ও মোহনগঞ্জ এলাকার যাত্রীদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। আপনি যদি ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জ কিংবা মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকা যাতায়াত করতে চান ? তবে যাত্রার আগে ট্রেনের সঠিক সময় ও ভাড়ার পরিমাণ জেনে নেওয়া জরুরি।

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ইতিহাস ও গুরুত্ব

বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবায় ২০১৬ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর যুক্ত হয় এক নতুন নাম মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। মূলত নেত্রকোণা জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের লক্ষ্যেই এই আন্তঃনগর ট্রেনটি চালু করা হয়েছিল। হাওর অঞ্চলের কৃষি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে এই ট্রেনের ভূমিকা অপরিসীম। যাতায়াতের পাশাপাশি এই ট্রেনটি পণ্য পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ঢাকা থেকে নেত্রকোণা বা মোহনগঞ্জ যাওয়ার জন্য সড়ক পথ থাকলেও রেলপথে ভ্রমণ অনেক বেশি নিরাপদ ও ক্লান্তিহীন। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন হাওরের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় আসে, তখন পর্যটকদের প্রথম পছন্দ থাকে এই মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। বর্তমানে এটি ৭৮৯ এবং ৭৯০ নম্বর ট্রেন হিসেবে নিয়মিতভাবে যাত্রী সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ট্রেনের দৃশ্য
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ট্রেনের দৃশ্য

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও সাপ্তাহিক ছুটি

যেকোনো ভ্রমণে সময় ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়। আপনি যদি আপনার যাত্রা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে চান, তবে অবশ্যই মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী মাথায় রেখে স্টেশনে উপস্থিত হতে হবে। নিচে ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচী তুলে ধরা হলো:

ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জ যাওয়ার সময়সূচী (৭৮৯)

ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে এই ট্রেনটি নিয়মিতভাবে ছেড়ে যায়। যারা দিনের বেলায় যাত্রা করে বিকেলের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান, তাদের জন্য এই শিডিউলটি অত্যন্ত সুবিধাজনক।

  • ট্রেনের নাম: মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৮৯)
  • ছাড়ার স্থান: ঢাকা (কমলাপুর)
  • গন্তব্য স্থান: মোহনগঞ্জ
  • ছাড়ার সময়: দুপুর ০১:১৫ মিনিট
  • পৌঁছানোর সময়: সন্ধ্যা ০৬:২০ মিনিট
  • সাপ্তাহিক ছুটি: শুক্রবার

মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকা আসার সময়সূচী (৭৯০)

মোহনগঞ্জ থেকে যারা রাতে যাত্রা করে ভোরে ঢাকা পৌঁছাতে চান, তাদের জন্য এই ট্রেনটি সেরা বিকল্প। রাতে ঘুমের মাঝেই আপনার যাত্রা শেষ হয়ে যাবে এবং সকালে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করতে পারবেন।

  • ট্রেনের নাম: মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৯০)
  • ছাড়ার স্থান: মোহনগঞ্জ
  • গন্তব্য স্থান: ঢাকা (কমলাপুর)
  • ছাড়ার সময়: রাত ১১:০০ মিনিট
  • পৌঁছানোর সময়: ভোর ০৪:১৫ মিনিট
  • সাপ্তাহিক ছুটি: শুক্রবার

ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে ছাড়ার চেষ্টা করলেও যান্ত্রিক বা সিগন্যাল জনিত কারণে সময়ের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তাই ভ্রমণের অন্তত আধা ঘণ্টা আগে স্টেশনে পৌঁছানোই বুদ্ধিমানের কাজ। মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী নিয়মিত আপডেট পাওয়ার জন্য আপনি স্টেশনের ডিসপ্লে বোর্ড বা রেলওয়ের তথ্যকেন্দ্রের সাহায্য নিতে পারেন।

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশনসমূহ

ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জ যাওয়ার পথে ট্রেনটি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বিরতি দেয়। এর ফলে মধ্যবর্তী স্টেশনের যাত্রীরাও অনায়াসে যাতায়াত করতে পারেন। প্রতিটি বিরতি স্টেশনে ট্রেনটি কয়েক মিনিটের জন্য থামে। নিচে বিরতি স্টেশন ও সময়সূচীর একটি তালিকা দেওয়া হলো:

বিরতি স্টেশনের নাম ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় (৭৮৯) মোহনগঞ্জ থেকে ফেরার সময় (৭৯০)
ঢাকা বিমানবন্দর ১৩:৩৮ ০৩:৪০ (সম্ভাব্য)
গফরগাঁও ১৪:৫৫ ০২:০৫
ময়মনসিংহ ১৫:৩৮ ০১:০৫
গৌরীপুর জংশন ১৬:২৩ ০০:৩২
শ্যামগঞ্জ ১৬:৩৮ ০০:১৫ (মধ্যরাত)
নেত্রকোণা ১৭:০২ ২৩:৫০
ঠাকুরাকোণা ১৭:২১ ২৩:২৭
বারহাট্টা ১৭:২৫ ২৩:১৬

এই বিরতি স্টেশনগুলোর মাধ্যমে ট্রেনটি গফরগাঁও, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা অঞ্চলের মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ স্টেশনে ট্রেনের পানি পূর্ণ করা এবং যান্ত্রিক পরীক্ষা করার জন্য কিছুটা বাড়তি সময় অবস্থান করা হয়।

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার হার অনুযায়ী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ভাড়ার পরিমাণ নির্ভর করে আপনি কোন শ্রেনীর আসনে ভ্রমণ করবেন তার ওপর। সাধারণ মধ্যবিত্ত যাত্রীদের জন্য যেমন সুলভ আসনের ব্যবস্থা আছে, তেমনি বিলাসবহুল ভ্রমণের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার ব্যবস্থাও রয়েছে। মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী জানার পর ভাড়ার তালিকা দেখে আপনার বাজেট নির্ধারণ করুন।

আসন বিভাগ ভাড়ার পরিমাণ (১৫% ভ্যাটসহ)
শোভন চেয়ার ২৫০ টাকা
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) ৪৭২ টাকা
এসি সিট ৫৭০ টাকা
এসি বার্থ ৮৫১ টাকা

উল্লেখ্য যে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষ প্রয়োজনে ভাড়ার তালিকা যে কোনো সময় পরিবর্তন করতে পারে। তাই বর্তমান ভাড়া নিশ্চিত হতে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল সাইট বা কাউন্টারে যোগাযোগ করা উত্তম। শিশুদের জন্য অর্ধেক ভাড়ার ব্যবস্থা থাকলেও এসি বার্থের ক্ষেত্রে পূর্ণ টিকেট ক্রয় করতে হয়।

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ভেতরের সিটের ব্যবস্থা
মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ভেতরের সিটের ব্যবস্থা

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সুযোগ-সুবিধা

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস একটি আধুনিক আন্তঃনগর ট্রেন হওয়ায় এতে যাত্রীদের জন্য বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। দীর্ঘ যাত্রায় যেন যাত্রীদের কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা হয়।

  1. আরামদায়ক আসন ব্যবস্থা: ট্রেনের প্রতিটি বগিতে উন্নত মানের সিট বসানো হয়েছে। বিশেষ করে স্নিগ্ধা ও এসি বার্থের সিটগুলো দীর্ঘ যাত্রার জন্য বেশ আরামদায়ক। প্রতিটি সিটের পাশে চার্জিং পয়েন্টের সুবিধাও রয়েছে।
  2. ক্যাফেটেরিয়া সুবিধা: ট্রেনের ভেতর একটি সুন্দর ক্যান্টিন বা ক্যাফেটেরিয়া থাকে। সেখান থেকে আপনি চা, কফি, বিস্কুট, কেক বা বিরিয়ানির মতো হালকা খাবার কিনে নিতে পারেন। খাবারের মান সাধারণত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়।
  3. প্রার্থনা ও শৌচাগার: নামাজ পড়ার জন্য ট্রেনের নির্দিষ্ট অংশে জায়গা বরাদ্দ থাকে। এছাড়া প্রতিটি বগিতে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শৌচাগার বা টয়লেট রাখা হয়।
  4. নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য রেলওয়ে পুলিশের একটি দল সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকে। এছাড়া অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থাও প্রতিটি বগিতে লক্ষ্য করা যায়।

অনলাইনে টিকেট বুকিং করার পদ্ধতি

ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে এখন আর লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কাটার ঝামেলা নেই। আপনি চাইলে ঘরে বসেই মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী দেখে টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন। অনলাইনে টিকেট কাটার ধাপগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

প্রথমত, আপনাকে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেট ওয়েবসাইট অথবা ‘রেল সেবা’ মোবাইল অ্যাপে প্রবেশ করতে হবে। এরপর আপনার মোবাইল নম্বর এবং এনআইডি কার্ড দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে। একবার লগইন করার পর আপনি যে স্টেশন থেকে যাত্রা করবেন এবং যেখানে পৌঁছাবেন তা নির্বাচন করুন। এরপর ভ্রমণের তারিখ দিয়ে সার্চ দিলেই মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের নাম চলে আসবে।

আপনি আপনার পছন্দমতো আসন বা বগি নির্বাচন করে বিকাশ, নগদ কিংবা রকেটের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারেন। পেমেন্ট সফল হলে আপনার মোবাইলে একটি ই-টিকেট চলে আসবে। এটি প্রিন্ট করে বা মোবাইলে দেখিয়ে আপনি স্টেশনে প্রবেশ করতে পারবেন। মনে রাখবেন যাত্রার অন্তত ১০ দিন আগে থেকে অগ্রিম টিকেট পাওয়া যায়।

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণের টিপস ও সতর্কতা

নিরাপদ ও আনন্দদায়ক ভ্রমণের জন্য কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চলা উচিত। মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী মেনে চলার পাশাপাশি নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:

  • ট্রেন ছাড়ার অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত থাকুন।
  • আপনার সাথে থাকা মালপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন এবং মালামাল বেশি হলে কুলির সাহায্য নিতে পারেন।
  • ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরের দিকে মাথা বা হাত বের করবেন না।
  • অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।
  • ট্রেন ভ্রমণের সময় নিজের টিকেট এবং পরিচয়পত্র সাথে রাখুন, কারণ যেকোনো সময় টিকেট চেকার টিকেট যাচাই করতে পারেন।

হাওর অঞ্চলের এই রুটে যাতায়াত করার সময় ট্রেনের জানালা দিয়ে যে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যায় তা সত্যিই অতুলনীয়। বিশেষ করে ময়মনসিংহ পার হওয়ার পর দুপাশে ছোট ছোট গ্রাম ও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ আপনার ক্লান্তি দূর করে দেবে।

নেত্রকোণা ও মোহনগঞ্জের দর্শনীয় স্থান

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে করে আপনি যখন গন্তব্যে পৌঁছাবেন, তখন আপনার হাতের কাছেই থাকবে বেশ কিছু চমৎকার পর্যটন কেন্দ্র। নেত্রকোণা জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। বিরিশিরি, বিজয়পুর চীনামাটির পাহাড়, সোমেশ্বরী নদী এবং দুর্গাপুরের নীল জল আপনাকে মুগ্ধ করবে। এছাড়া মোহনগঞ্জের কাছাকাছি ডিঙ্গাপোতা হাওর বর্ষাকালে সমুদ্রের মতো বিশাল রূপ ধারণ করে।

আপনি যদি প্রকৃতি প্রেমিক হন তাহলে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী দেখে একটি ছোট ট্যুর প্ল্যান করে ফেলতে পারেন। ট্রেনের সাশ্রয়ী ভাড়া এবং নিরাপদ ভ্রমণ আপনার ট্যুরকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলবে। এই ট্রেনের মাধ্যমেই মূলত নেত্রকোণার পর্যটন শিল্প অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

শেষ কথা

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তথ্য জেনে নিলে আপনার যাত্রা অনেক বেশি গোছানো এবং ঝামেলামুক্ত হয়। আমরা চেষ্টা করেছি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাকে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদান করতে। বাংলাদেশ রেলওয়ে আমাদের জাতীয় সম্পদ, তাই ভ্রমণের সময় ট্রেনের ভেতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আপনার আসন্ন ভ্রমণ নিরাপদ ও স্মৃতিময় হোক এই শুভকামনা রইল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button